Ovimani valobasa
Ovimani valobasa

অভিমানি ভালোবাসার গল্প  Bangla Romantic Golpo । কিন্তুু এবার ঠিক তার উল্টো। জুহির মাথাটা কেমন ঝিম ধরে এসেছে। হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নেয় জুহি কিন্তুু তার সামনে থাকা লোকটি তাকে ধরে নেয়। এরপর আর কিছু মনে নেই জুহির। কারণ সে সেন্সলেচ হয়ে যায়।

অভিমানি ভালোবাসা Part 2

অন্যদিকে রোদ অফিসে চলে তো যায় ঠিক কিন্তুু নিজেকে কিছুতেই সামলাতে পারছে না। বারবার জুহির সেই অসহায় মুখ টি চোখের সামনে ভেসে উঠছে। নাহ তার হয়তো জুহি কে এভাবে ইগনোর করা ঠিক হয়নি।

হাজার হোক সে জুহি কে ভালোবাসে। জুহির তো কোনো দোষ নেই। হঠাৎ করে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে সে নাহয় উল্টা পাল্টা বলে ফেলেছে তাই বলে রোদের এমন বিহেভ করা ঠিক হয়নি। বুঝতে পেরে রোদ দ্রুত গাড়ির নিয়ে বাসার দিকে রওয়ানা দেয়।

বাসায় পৌঁছে যায় রোদ। নিজের রুমে গিয়ে বেডের পাশে একটা কাগজ পড়ে থাকতে দেখে সে। রোদ কাগজ টা হাতে নেয়।

-আমি না হয় ভুল করে উল্টোপাল্টা বলে ফেলেছি তাই বলে আপনি ও আমার সাথে এমন বিহেভ করবেন? আমি আপনাকে সেই ছোট বেলা থেকে ভালোবাসতাম। ছোট বেলায় আপনি যখন আমাকে অবহেলা করতে শুরু করেছিলেন একদিন আপনার উপর রাগ করেই দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। ইচ্ছে ছিলো আর কখনোই আপনার সাথে দেখা করবো না। রাগ করে মামনি কে নিষেধ করেছিলাম যাতে আমার কোনো কিছুই আপনাকে না দেয়। আপনি জেনো কোনো ভাবেই আমার সাথে যোগাযোগ করতে না পারেন। কিন্তুু নিজের এই জেদ রাগ সব হার মেনে যায় আপনার ভালোবাসার কাছে। যখন মামনি বললো আমি আপনাদের ঐ খান থেকে চলে আসার পর আপনি ও পাগলামি শুরু করে দিয়েছিলেন। আমি চলে আসার পর থেকে এখন ওবধি আমার জন্য অপেক্ষা করে যাচ্ছেন আমার জন্য বিয়ে পর্যন্ত করছেন না। আপনি যখন আমার ছবি বুকে নিয়ে কান্না করছিলেন তখন মামনি আপনাকে দেখে ফেলে। সব কিছু জানার পর আর থাকতে পারি নি। Ovimani valobasa

চলে আসি এখানে। তারপর আপনাকে জেলাস ফিল করানোর জন্য শুভ ভাইয়ার সাথে অভিনয় করছিলাম। এটাই বুঝাতে চেয়েছিলাম আপনাকে যে আগে আমার কেমন লাগতো যখন আপনি অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলতেন। আজকে আপনার কথায় বুঝলাম হয়তো আপনার সাথে একটু বেশী ওভার রিয়েক্ট করে ফেলেছি। পারলে ক্ষমা করে দিবেন। আপনি যখন আর আমার মুখ ও দেখতে চান না চলে যাচ্ছি আমি। ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

“ইতি জুহি”

রোদ পুরো লিখা টা পড়ে থ হয়ে যায়। কোথায় চলে যাচ্ছে জুহি..??রোদ নিচে নেমে ওর আম্মু কে ডাকে।

-আম্মু জুহি কোথায়? (রোদ)

-ও তো বললো ওর ফুফুর বাসায় যাবে। (আম্মু)

-তুমি যেতে দিলে কেন? (রোদ)

-আরে ও জোড় করছিলো। কিন্তুু কি হলো টা কি? (আম্মু)

-আচ্ছা আমি যাচ্ছি। (রোদ)

-কোথায় যাচ্ছিস? (আম্মু)

-পরে বলবো। (রোদ)

রোদ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। যে করেই হোক জুহি কে আটকাতেই হবে। না হলে কখন আবার রাগ করে দেশের বাহিরে চলে যায় বলা যাবে না। দ্রুত গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে রোদ। Ovimani valobasa

জুহির যখন সেন্স ফিরে তখন নিজেকে জুহি হসপিটালের বেডে আবিষ্কার করে। মাথায় হালকা ব্যাথা অনুভব করে জুহি। আশে পাশে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই। আস্তে আস্তে বেড ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় জুহি। এমন সময় একটি নার্স আসে।

-ম্যাম আপনার জ্ঞান ফিরেছে…(নার্স)

-হুম কিন্তুু কি হয়েছিলো আমার। আর আমি হসপিটালে কিভাবে এলাম?( জুহি)

-জ্বী ম্যাম আপনি সেন্সলেচ হয়ে গিয়েছিলেন। একজন ভদ্রলোক আপনাকে হসপিটালে নিয়ে এসেছে। (নার্স)

-কে উনি। (জুহি)

-আমি ডেকে দিচ্ছি উনাকে। (নার্স)

নার্স টি বাহিরে গিয়ে জিসান কে জানায় যে জুহির জ্ঞান ফিরেছে। জিসান জুহির কাছে আসে। জুহি জিসান কে দেখেই রেগে যায়।

-আপনি! আপনি এখানে কি করছেন? (জুহি রেগে)

-শান্ত হোন। এতো রেগে যাচ্ছেন কেন। আর আজকের ঐ এক্সিডেন্টের জন্য আই এম এক্সট্রিমলি সরি। (জিসান)

-সরি আমাকে নয় উনাকে বললে ভালো হতো। (জুহি)

-হুম সেটা আমি বুঝতে পেরেছি। আচ্ছা আপনি এতো রেগে যাচ্ছেন কেন বলুনতো। (জিসান)

-আমাকে হসপিটালে নিয়ে আসার জন্য ধন্যবাদ। আপনার নিশ্চয়ই এখন টাকা চাই! বলুন কতো টাকা চাই? (জুহি)

-টাকা নয় আমার তোমাকেই চাই। (বিড়বিড় করে) Ovimani valobasa

-কিছু কি বললেন? (জুহি)

-না তো। (জিসান)

-কিছু জিঙ্গেস করেছি আমি আপনাকে? (জুহি)

-হেল্প করে আবার টাকা নিবো সরি এমন মানুষ আমি নই। (জিসান)

-কেমন মানুষ আপনি তাতো আমি নিজের চোখেই দেখলাম। এখন আসি আমি। (জুহি)

-এইইইই ওয়েট ওয়েট (জিসান)

-কি? (জুহি)

-আপনি কোথায় যাচ্ছেন? (জিসান)

-কেন আমি আমার যেখানে যাওয়ার কথা সেখানেই যাচ্ছি। (জুহি)

-ডাক্তার বলেছে আপনার শরীর দুর্বল এখন আপনার বেড রেস্ট দরকার। (জিসান)

-তা নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না। (জুহি) Ovimani valobasa

জুহি দ্রুত পায়ে হেঁটে হসপিটাল থেকে বেরিয়ে একটা রিকশা নিয়ে ওর ফুফুর বাসার দিকে রওয়ানা দেয়। আর হঠাৎ করেই রোদ এসে জুহির সামনে দাঁড়ায়।

-কোথায় যাচ্ছিস তুই? (রোদ)

জুহি তার সামনে রোদ কে দেখে কিছুটা অবাক হয়ে যায়। আবার সকালে রোদের বলা কথা গুলো মনে পড়ে।

-আমি আমার যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাবো। আপনার কি দরকার? (জুহি)

-জুহি আ’ম সরি আমার ও ভুল হয়ে গেছে রে মাফ করে দে। (রোদ)

-মানে কি? আপনি কেন ক্ষমা চাচ্ছেন। ক্ষমা তো আমি চাইবো আপনার কাছে। আর আপনি তো আমার মুখ ও দেখতে চান না সো পথ ছাড়ুন আমাকে যেতে দিন। (জুহি)

-চুপ একদম চুপ কোনো কথা বলবি না। কোথাও যেতে পারবি না তুই। নেমে আয়। (রোদ)

-না। (জুহি)

-আসবি না তো? (রোদ)

-না। (জুহি)

-ওকে। আমি আমার কাজ করছি। (টোদ) Ovimani valobasa

-মানে? (জুহি)

রোদ জুহি কে কিছু বলতে না দিয়ে ওকে কোলে নিয়ে গাড়ি তে বসিয়ে ডোর লক করে দেয়। তারপর নিজে ও গাড়ি তে বসে।

-মানে হচ্ছে এটা। কেউ যদি স্বইচ্ছায় না আসে তো তাকে আমি জোড় করে নিয়ে আসি। (জুহি)

-হুহ।(রাগি লুক নিয়ে)

জুহি রোদের কথায় ভেঙ্গচি কেটে রাগ করে অন্যদিকে ফিরে যায়। রোদ হোহো করে হেসে উঠে। রোদ যে জুহি কে পেয়েছে এতেই ওর খুঁশি লাগছে। পুরো টা সময় জুহি রোদের সাথে একটা কথা ও বললো না। রোদ তাকে এটা সেটা বলেই যাচ্ছে কিন্তু জুহি কোনো উওর দিচ্ছে না। সে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে।

অন্যদিকে জিসান হসপিটালের বিল চুকিয়ে হসপিটাল থেকে বের হতেই দেখে কোথা ও জুহির চিহৃ ও নেই।

-মিনিটের মধ্যে কোথায় উধাও হয়ে গেলো মেয়েটা? (মনে মনে)

এমন সময় জিসানের পিএ সাদ আসে।

-স্যার আপনি যাকে খুঁজছেন সে তো চলে গেছে। Ovimani valobasa

-কোথায় গেছে? (জিসান)

-তাতো জানিনা। শুধু দেখেছি একটা ছেলে ঐ মেয়েটিকে জোড় করে গাড়ি তে বসিয়ে নিয়ে চলে গেছে।

-সিট তুমি ওদের আটকাও নি কেন? (জিসান)

-কেন স্যার উনি কে?

-কিছু না। ঐ মেয়েটির অল ডিটেইল চাই আমার। (জিসান)

-ওকে স্যার।

রোদ তাদের বাসায় এসে পৌঁছায়।

-এবার নামেন ম্যাম সাহেব!, (রোদ)

-উহু। (মাথা নাড়িয়ে না জানায়)

-নামবেন না? নাকি আবার কোলে……..(রোদ)

-এইতো নামছি। (জুহি)

তাড়াতাড়ি নেমে যায় জুহি। না হলে আবার যদি রোদ তাকে কোলে নিয়ে নেয় তাহলে মান সম্মান সব শেষ। বাসায় ঢুকতেই রোদের আম্মু সামনে পড়ে।

-কিরে জুহি রোদ তোদের হয়েছে টা কি বল তো? কিছুই তো বুঝলাম না। (আম্মু)

-মামনি তোমার ছেলে আমাকে বলেছে আমার মুখ দেখতে চায় না তাই আমি চলে গেছি কিন্তুু আবার মাঝ রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে এসেছে কেন জিঙ্গেস করো। (জুহি) Ovimani valobasa

-কিরে রোদ কি শুনছি! (আম্মু)

-ঐ আম্মু হয়েছে কি…..(মাথা চুলকিয়ে)

-এ্যাঁ এ্যাঁ……..(জুহি)

-জুহি কি হলো আবার তোর?(রোদের আম্মু)

-কি হয়েছে জুহি? (রোদ)

-আমার ক্ষুধা পেয়েছে। (জুহি)

-দেখছিস রোদ তোর জন্য মেয়ে টা এখনো ওবধি না খেয়ে আছে। জুহি তোকে বলছি রোদ রাগারাগি করবে তাই বলে তুই খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিবি এসব কি রে? (রোদের আম্মু)

-সরি মামনি। (রোদ)

-আমি কি ওকে বলেছিলাম না খেয়ে থাকতে? (রোদ)

-বলতে হয় নারে বান্দর। (রোদের কান টেনে)

-আহ আম্মু লাগছে তো। (রোদ)

-তুই ওকে ভালোবাসিস কিন্তুু ওকে বুঝিস না হ্যাঁ? (আম্মু)

-বুঝি তো। (রোদ)

-হয়েছে আর বলতে হবে না। জুহি তুই ফ্রেশ হয়ে আয় আমি টেবিলে খাবার সার্ভ করছি। (আম্মু)

-আচ্ছা মামনি। (জুহি) Ovimani valobasa

জুহি রোদের দিকে তাকিয়ে ভেঙ্গচি কেটে উপরে চলে যায়। রোদ হেসে দেয়। বড্ড খুশি লাগছে তার। যখন জানতে পেরেছে জুহি তাকে এখনো ভালোবাসে। আর শুধু তার জন্যই এখানে এসেছে। অন্যদিকে জুহি ভাবতেই পারেনি রোদ তাকে এভাবে নিয়ে আসবে।

সব প্ল্যান ভেজতে গেলো। রোদ ও জেনে গেছে সে তাকে ভালোবাসে। নয়তো রোদ কে আরো কয়েকদিন জ্বালানো যেতো।

-ইশ কি ভুল টাই না করলাম আমি। (মনে মনে)

সবাই মিলে একসাথে লাঞ্চ করে নেয়। তারপর থেকেই জুহি রোদের সামনে নিজেকে কোনো ভাবেই ধরা দিচ্ছে না। পালিয়ে বেড়াচ্ছে। রোদ চারদিকে খুঁজে বেড়াচ্ছে জুহি কে কিন্তুু কোথায় জুহি?

পুরো বাড়ি খুঁজে ও জুহি না পেয়ে হতাশ হয়ে যায় রোদ।অবশেষে রোদ ছাঁদে গিয়ে দেখে জুহি সেখানে লুকিয়ে বসে আছে। রোদ কে দেখেই জুহি চোখ বড় বড় করে নেয়।

-কি আর একটু হলেই তো মনে হয় চোখ দুটো বেরিয়ে আসবে! (রোদ)

-মমমমানে। (জুহি)

-মানে তোর মাথা। তুই আমার থেকে পালাচ্ছিস? (রোদ)

-ককককই নাতো। কেন পালাবো আপনি বাঘ না ভাল্লুক? (জুহি)

-সেটাই তো। (রোদ)

রোদ আস্তে আস্তে জুহির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।

-ককককি হলো ভাইয়া আপনি আমার দিকে এগোচ্ছেন কেন? (জুহি) Ovimani valobasa

-আমি তোর ভাইয়া তাই না। (রোদ)

-ননননা মমমানে…..! (জুহি)

রোদ জুহির খুব কাছে চলে আসে। এতো টাই কাছে যে রোদের নিশ্বাস জুহির মুখের উপর এসে পড়ছে। জুহির হার্টবিট বেড়ে গেছে। ঠোঁট প্রচন্ড রকমের কাঁপছে জুহির। যা রোদ কে আরো বেশী কাছে টানছে।

খুব আকর্ষণ করছে রোদ কে। রোদ জেনো কোনো এক ঘোরের মধ্যে চলে গেছে। জুহি চোখ খিচে বন্ধ করে রেখেছে। যা রোদ কে আরো পাগল করে দিচ্ছে। রোদ আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে জুহির ঠোঁট জোড়া নিজের করে নেয়

জুহির কাপা কাপা ঠোঁটজোড়া খুব আকর্ষণ করছে রোদ কে। রোদ জেনো কোনো এক ঘোরের মধ্যে চলে গেছে। জুহি চোখ খিচে বন্ধ করে রেখেছে। যা রোদ কে আরো পাগল করে দিচ্ছে। রোদ আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে জুহির ঠোঁট জোড়া নিজের করে নেয়।

জুহি রোদকে হালকা একটা ধাক্কা দেয়। যার ফলে রোদ জুহির থেকে একটু দূরে সরে যায়। আর জুহি দৌড়ে নিচে চলে যাওয়া ধরে…

রোদ জুহির যাওয়ার দিকে চেয়ে মাথা চুলকিয়ে একটা সয়তানি হাসি দেয়। রোদ কি করতে যাচ্ছিলো ভেবেই কেমন জেনো লাগছে।

জুহি দৌড়ে ছাঁদ থেকে নেমে আসতেই রিমির সাথে ধাক্কা খেয়ে দুজনেই ঠাস করে নিচে পড়ে যায়। আর সাথে সাথেই চিৎকার। রোদ নিচ থেকে কারো চিৎকার শুনতে পেয়ে তাড়াতাড়ি নিচে আসে। আর নিচে আসতেই জুহি আর রিমিকে এই অবস্থায় দেখে হাসতে হাসতে শেষ।

-রিমি তুমি দেখে শুনে হাঁটবে তো নাকি! (জুহি)

-আরে এখানে আমার কি দোষ তুমি ই তো দৌড়ে আসছিলে….(রিমি) Ovimani valobasa

-আমি দৌড়ে আসছিলাম তো কি হয়েছে তুমি সরে যেতে পারতে। (জুহি)

-আরে……..এই কথাটি বলে রিমি বড় বড় চোখ করে একবার রোদের দিকে তাকায় তো আরেক বার জুহির দিকে। এমন একটা ভাব হচ্ছে জেনো সে খুব গভীর ভাবে কিছু বোঝার চেষ্টা করছে।

-কি হলো রিমি এভাবে বড় বড় চোখ করে কি দেখছো? (জুহি)

-ওয়েট ওয়েট তোমরা দুজন একসাথে….! (রিমি)

-মানে? (জুহি)

-তুমি ছাঁদ থেকে দৌড়ে নিচে আসছিলে রাইট? (রিমি)

-হ্যাঁ তো এখানে এভাবে বড় বড় চোখ করে দেখার কি আছে? (জুহি)

-ভাই ও ছাঁদ থেকেই আসলো। কাহিনী কি বলো তো। তোমরা দুইজন কি সামথিং সামথিং….(রিমি চোখ টিপ মেরে)

জুহি রিমির কথায় চমকে উঠে।

-কিসের সামথিং সামথিং! আমি ওসব সামথিং হোক আর নাথিং কোনো কিছুতেই নাই। (জুহি)

জুহি তাড়াতাড়ি কেটে পড়ে। না হলে রিমি যা ইঙ্গিত করছে। আর কিছুক্ষণ থাকলে মান সম্মান সব হারাতে হবে।

-আমি ও গেলাম! (রোদ)

-হ্যাঁ ভাই তুই আর থেকে কি করবি।(রিমি হো হো করে হেসে) Ovimani valobasa

-এতো হাসিস না পরে কাঁদতে হবে। (রোদ)

কথাটি বলেই রোদ চলে যায়।

বিকেলে………

জুহি ঘুমিয়ে আছে। রিমি ঝিমি জুহি কে ডাকতে ওর রুমে আসে।

-আপু ও আপু উঠো। (রিমি)

-(চুপ)

-আপুউউউ….(ঝিমি)

অনেক বার ডাকার পর ও জুহি কোনো সাড়া শব্দ নেই। রিমি আর ঝিমি কোনো উপায় না দেখে জুহি কে টেনে ঘুম থেকে তুলে।

-কি হয়েছে তোমাদের। (জুহি)

-আমাদের তো কিছু হয় নি। হয়েছে তো তোমার।(রিমি) Ovimani valobasa

-কই আমার আবার কি হয়েছে? (জুহি)

-কতো বার ডাকলাম উঠছোই না। নিচে চলো তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে। (ঝিমি)

-কিসের সারপ্রাইজ?(জুহি)

-নিচে গেলেই দেখতে পাবে। এখন আমরা গেলাম। এই ঝিমি চল। (রিমি)

-হু। (ঝিমি)

রিমি ঝিমি চলে যায়। জুহি হাই তুলতে তুলতে ভাবছে -কিসের সারপ্রাইজের কথা বললো রিমি। কি হতে পারে সেই সারপ্রাইজ। আস্তে আস্তে নিচে নেমে আসে জুহি। আর নিচে নামতেই ওর চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।

জুহি হালকা দৌড়ে ওর আব্বু আম্মু কে জড়িয়ে ধরে।

-মাম্মি বাপি তোমরা কখন আসলে। (জুহি)

-আরো একটু আগে। কেমন আছো জুহি। (জুহির বাবা)

-ভালো তোমরা? (জুহি)

-আমরা তো এখন আরো ভালো আছি। (জুহির বাবা) Ovimani valobasa

-তোমরা আসবে আমাকে বললে না কেন? (জুহি)

-তোমার মামনি বলতে নিষেধ করেছে। তোমাকে সারপ্রাইজ দিবে বলে। (জুহির বাবা)

-সারপ্রাইজ টা কেমন হয়েছে জুহি?(রোদের আম্মু)

-অনেক ভালো। ইশ আমার যে কি খুশি লাগছে বলে বুঝাতে পারবো না।(জুহি)

সবাই জুহি কথা শুনে হেসে উঠে। জুহির চোখ রোদের দিকে যেতেই দেখে রোদ ও মুখ টিপে টিপে হাসছে। জুহি ভেঙ্গচি কেটে অন্যদিকে তাকায়।

এভাবে হাসি খুশি তে কেটে যায় ঐ দিন টাও। জুহির আব্বু আম্মু আসার একটা কারণ তো অবশ্যই আছে আর সেটা হলো জুহি আর রোদের বিয়ে। যেটা জুহি পরে জানতে পারে। রোদ কে বিয়ের কথা জানতে সবাই কে নিষেধ করে দেয় রোদের আব্বু। কথা মতোই কেউ ই রোদ কে জানায় নি। রোদ বেচারা জানেই না তার বিয়ে।

রোদ তো মনের সুখে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে।

কোলাহলের কারণে রোদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। রোদ বুঝতে পারছে না এতো কোলাহল কিসের।নিচে এসে দেখে সবাই মিলে কি জেনো করছে। রোদ ফ্রেশ হয়ে নেয়।

-আম্মু তোমরা যাচ্ছো টা কোথায়? (রোদ)

রোদ ওর আম্মুর পিছন পিছন হাটছে আর জিঙ্গেস করছে কি হচ্ছে এসব কিন্তুু অবাক করা বিষয় কেউ ই ওকে পাওা দিচ্ছে না। রোদের অবস্থা নাজেহাল। রিমি ঝিমি শান্ত আর কাব্য এক পাশে বসে কিছু নিয়ে সমালোচনা করছে। রোদ ওদের কাছে যায়।

-কি হলো তোমার রোদ ভাইয়া মুখ এমন বাংলা পাঁচের এতো করে রেখেছো কেন? (শান্ত)

-কিছু না। আচ্ছা এটলিস্ট তোরা তো বলবি আমাকে কি হচ্ছে এসব? (রোদ)

-ওসব তুমি বুঝবে না। (শান্ত} Ovimani valobasa

-মানে? (রোদ)

-এই এখন আর কোনো কথা না। চলো সবাই নাস্তা করতে ডাকছে আমাদের। (ঝিমি)

এরাও রোদ কে পাওা দিলো না। রোদ জেনো বোকা বনে গেলো। সবাই নাস্তা করতে চলে যায়। শুভ্র আসে।

-চল ভাই‌ রোদ নাস্তা করে নে। একটু পর বেরোতে হবে আমাদের। (শুভ্র)

-আরে আজব ব্যাপার। তোদের কিছুই তো আমি বুঝতে পারলাম না। (রোদ)

-কি বুঝতে পারিস নি?(শুভ্র)

-এসব কি হচ্ছে? (রোদ)

-আরে বলবো পরে সব। এখন চল আগে নাস্তা করে নিই। (শুভ্র)

-তারপর বেরোতে হবে কেন? (রোদ)

-শপিং করতে যাবো আরো অনেক কাজ আছে। চল তো নাস্তা করবো। (শুভ্র)

-কিন্তু….(রোদ)

-এখন আর কোনো কথা নয়….(শুভ্র)

রোদ কে আর কোনো কথা বলতে না দিয়ে শুভ্র ওকে জোড় করে নিয়ে এসে নাস্তা করতে বসিয়ে দেয়। সবাই নাস্তা করতে এসেছে কিন্তুু জুহি নেই। রোদ কয়েক বার এদিক সেদিক দেখার চেষ্টা করে কোথাও জুহি আছে কিনা।

শুভ্র বুঝতে পেরে রোদ কে চুপিচুপি বলে।

-তুই যাকে খুঁজছিস সে তার কাজে গেছে! (শুভে) Ovimani valobasa

-মানে? (রোদ)

-মানে তোর মাথা। আগে তাড়াতাড়ি নাস্তা কর তো। যা খোঁজার পরে খুঁজিস। (শুভ্র)

অতঃপর সবাই নাস্তা করে নেয়। সবাই মিলে শপিংমলের উদ্দেশ্য বেরোয়।রোদ তো বারবার শুভ্র কে জিঙ্গেস করছে কিসের জন্য এসব করছে। কিন্তুু কোনোই উওর পাচ্ছে না সে।

দুপুর ২ টার দিকে সব কাজ শেষ হয়। তারপর সবাই মিলে রেস্টুরেন্টে গিয়ে লাঞ্চ করে নেয়। জুহি কে নিয়ে গেছে অন্য কাজে। রোদ সকাল থেকে এখনো ওবধি জুহির দেখাই পায় নি।

যাই হোক সব কাজ শেষে বাসায় ফিরে সবাই। রোদ ওর রুমে চলে যায়। ভীষণ টায়ার্ড সবাই। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয় রোদ। তারপর উঠে রুমের মধ্যে পায়চারী করছে।

-নাহ এভাবে আর হবে না। এক দিকে কেউ তো আমায় বলছেই না এসব কি হচ্ছে? আবার অন্যদিকে জুহি কে একেবারের জন্য চোখের দেখাই দেখলাম না। গেলো কোথায় মেয়েটা।(মনে মনে)

রোদ জুহি কে ডাকতে ডাকতে ওর রুমের দিকে যেতেই রিমি এসে রোদের পথ আটকায়।

-জুহি এই জুহি…..(রোদ)

-আরে ভাই তুই? (রিমি)

-হ্যাঁ আমি। তোরা জুহির রুমে কি করছিস? (রোদ)

-অনেক কিছু। তোকে কেন বলবো? (রিমি)

-না বললে নাই। আমার সাথে জুহির কথা আছে ওকে ডেকে দে তো। (রোদ)

-সরি ভাই জুহি আপু তোর সাথে কথা বলবে না। (রিমি) Ovimani valobasa

-কেন আমি আবার কি করলাম? (রোদ)

-সেটা তো তুই ভালো জানিস। (রিমি)

-দেখ রিমি ফাজলামি করিস না। জুহি কে ডেকে দে। (রোদ)

-বলছি তো জুহি আপু তোর সাথে কথা বলবে না। তুই যা তো এখন। (রিমি)

এই কথাটি বলে রিমি রোদের মুখের উপর ঠাস করে দরজা টা বন্ধ করে দেয়। হাবলার মতো অবস্থা রোদের।

ভীষণ রাগ হচ্ছে রোদের। শুভ্রর থেকে জানা দরকার এসবের মানে কি।

-কিরে তোদের মাঝে কি এমন কথা হচ্ছিলো শুনি? যা আমি আসার পর বন্ধ হয়ে গেছে? (রোদ)

-কককই কিছু না তো ভাইয়া। (কাব্য)

-সেসব ছাড়। শুভ্র এখন তো বল কি হচ্ছে টা কি? কেন হচ্ছে? (রোদ)

-সেটা তুই বড় আম্মু আর বড় আব্বু কে জিঙ্গেস কর।(শুভে)

রোদ কে পাস কাটিয়ে চলে যায় সবাই। রোদ কিছু একটা ভেবে নিজের রুমে চলে যায়। বেলকনিতে গিয়ে দেখে তাদের বাসা টা সাজানো হচ্ছে। রোদ রীতিমত বিস্মিত।

কারো বিয়ে হলে মেবি এমন সাজানো হয়। কিন্তুু কার বিয়ে হচ্ছে? কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না রোদ। সব কিছু মাথায় ঘুরতে ঘুরতে তাল গোল পাকিয়ে ফেলছে। রোদ আর কোনো উপায় না পেয়ে ওর আম্মুর কাছে যায়।

-আম্মু তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। (রোদ) Ovimani valobasa

-কি কথা বল।(কাজ করতে করতে)

-আম্মু বলো না এসব কি হচ্ছে কেন হচ্ছে? (রোদ)

-কোন সব? (আম্মু)

-শপিং করলে এখন দেখি আমাদের বাসা টা সাজানো হচ্ছে? কেন করা হচ্ছে এসব আম্মু? কারো বিয়ে নাকি?(রোদ)

-হ্যাঁ তুই এখনো জানিস না এটা? (আম্মু)

-কি জানবো? (রোদ)

-জুহির বিয়ে যে। (আম্মু)

-হোয়াট? কার সাথে জুহির বিয়ে? (রোদ)

-সেসব জেনে তুই কি করবি? তুই তো জুহি কে ভালোবাসিস না। (আম্মু)

-মানেহ……..(রোদ)

রোদের আম্মু রোদ কে আর কিছু না বলে চলে যায়। মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা রোদের। জুহির বিয়ে…! আর কিছুই ভাবতে পারছে না রোদ। রোদ শুভ্র কে ওর রুমে নিয়ে আসে।

-শুভ্র তুই আমাকে বলিস নি কেন যে জুহির বিয়ে?(রোদ)

-দেখ ভাই আমাদের দোষ দিস না। বড় আব্বু নিষেধ করেছিল। (শুভ্র) Ovimani valobasa

-কেন নিষেধ করেছে? (রোদ)

-সেটা তো আমি ও জানিনা। (শুভ্র)

-জুহির বিয়ে অন্য কারো সাথে হবে এসবের মানে কি?(রোদ)

-তুই তো জুহি কে ভালোবাসিস না। মেয়েটা তোকে সেই ছোট বেলা থেকে ভালোবেসে আসছে। কিন্তুু তুই বরাবরের মতো অবহেলা করে গেছিস। তাই জুহি…..(শুভ্র)

-শুভ্র বিশ্বাস কর আমি ওকে খুব ভালোবাসি। ছোট বেলায় তো আমি না বুঝে ওকে অবহেলা করতাম কিন্তুু এখন তো ভালিবাসি।

খুব ভালোবাসি ওকে আমি খুব।(রোদ)

-তাহলে গতকাল কেন ওকে বলেছিস? ওর মুখ ও আর দেখতে চাস না? (শুভ্র)

-সেটা তো আমি রাগ করে বলেছিলাম! (রোদ)

-তুই ভালো জানিস। আমি কিছু বলবো না। (শুভ্র)

-প্লিজ শুভ্র কিছু একটা কর আমি জুহি কে ছাড়া বাঁচবো না। খুব ভালোবাসি। নিজের চাইতে ও বেশি ভালোবাসি। সেখানে ওকে অন্য কেউ বিয়ে করবে!? (রোদ)

-এতোই যখন ভালোবাসিস আবার রাগারাগি করতে গেলি কেন? (শুভ্র) Ovimani valobasa

-সরি রে ভুল হয়ে গেছে। (রোদ)

-সেটা আমাকে বলে লাভ নেই। বিয়ে তো ঠিক ই হয়ে গেছে নাকি। জুহি ও রাজি। (শুভ্র)

-কোনো ভাবে কি বিয়ে টা আটকানো যায় না? (রোদ)

-তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? সব কিছু রেডি এখন কিভাবে বিয়ে আটকাবি? (শুভ্র)

-আমার জুহি কে অন্য কারো হতে দেবো না। দরকার হলে ওকে কিডন্যাপ করবো। (রোদ)

-কি বলছিস তুই রোদ? মাথা ঠিক আছে তোর? (শুভ্র)

-হ্যাঁ একদম ঠিক আছে। (রোদ)

-কি ভাবে কি করবি? (শুভ্র)

তারপর রোদ শুভ্র কে সব বুঝিয়ে দেয় কিভাবে কি করবে!

পরের দিন সকালে……

যথারীতি ফ্রেশ হয়ে পরিপাটি ভাবে রেডি রোদ। এখন শুধু আসল কাজ টাই হলে হলো। জুহি ছাঁদে সবার সাথে আড্ডা দিচ্ছে। রোদ একবার গিয়ে দেখে আসে। রোদ জুহি কে আসতে বললে সে কিছুতেই আসবে না। তা রোদ ভালোই জানে।তাই রোদ শুভ্র কে পাঠায়। Ovimani valobasa

শুভ্র ছাঁদে যায়। তারপর জুহি কে বলে…

-জুহি যাও তো আমার জন্য এক কাপ কফি নিয়ে আসো। (শুভ্র)

-ভাইয়া আমি!(মন খারাপ করে)

-হ্যাঁ তুমি! তোমার হাতের বানানো কফি খাবো আজকে। প্লিজ। (শুভ্র)

-আচ্ছা ঠিক আছে। (জুহি)

ঐ দিকে রোদ ফাঁদ পেতে বসে অপেক্ষা করছে কখন জুহি আসবে। শুভ্রর কথা শুনে জুহি ছাঁদ থেকে নিচে নামে। নিচে আসতেই পেছন থেকে রোদ জুহির মুখের উপর কিছু একটা চেপে ধরে। আর সাথে সাথেই জুহি সেন্সলেচ হয়ে যায়।

সেন্স ফিরলে চোখের সামনে রোদ কে দেখে অবাক হয়ে যায় জুহি। কোনো ভাবে উঠে দাঁড়ায় সে।

-আপনি! আপনি এখানে? (জুহি রেগে)

-হ্যাঁ আমি। (রোদ)

জুহি চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে দেখে এটা কোন জায়গা। পুরো রুমে ধুলাবালি ভর্তি।

-এটা আমি কোথায়? আপনি আমায় কোথায় নিয়ে এলেন? (জুহি)

-যেখানে নিয়ে এসেছি বেশ করেছি। তোর কও বড় সাহস তুই আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করবি। (রোদ)

-হ্যাঁ করবো। তাতে আপনার সমস্যা টা কোথায়? আপনি তো আমাকে ভালোবাসেন না। (জুহি)

-তোকে বলছি আমি তোকে ভালোবাসি না?(রোদ)

-বলেছেন ই তো। আপনি বলেছেন আমার মুখ ও দেখতে চান না সো….(জুহি)

-চুপ আর একটাও যদি কথা বলেছিস তো তোর মুখে আমি সুপারগ্লু লাগিয়ে দেবো। (রোদ) Ovimani valobasa

-আমি বাসায় যাবো এ্যাঁ এ্যাঁ……(জুহি)

রোদ শুভ্র কে ফোন দেয়।

-কই তুই?(রোদ)

-এই তো আর ২ মিনিট আসছি! (শুভ্র)

-যাকে নিয়ে আসতে বলেছিলাম নিয়ে আসছিস তো? (রোদ)

-হ্যাঁ একদম। ফোন রাখ তুই। (রোদ)

-আচ্ছা। (শুভ্র)

জুহি একপাশে বসে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করছে। আর রোদের কান্ড দেখছে।প্রচন্ড রকমের হাসি পেলে ও তা জোরপূর্বক চেপে রেখেছে জুহি। রোদ পায়চারী করছে। কিছুক্ষণ পর দরজায় কেউ নক করে। রোদ ভাবে হয়তো শুভ্র এসেছে।

কিছু টা খুশি হয় রোদ। মুখে হাসি নিয়ে দরজা খুলতেই‌ চোখ ছানাবড়া হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা রোদের!..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights