Bangla Romantic Golpo
Bangla Romantic Golpo

Bangla Romantic Golpo

গল্পঃ ঝগরাটে পাগলির মিষ্টি ভালোবাসা

WriTer : Obuj_Balok

—আম্মুউউউউউউউ

—কিরে ঘরে ঢুকেই এমন ষাঁড়ের মতন চিল্লিয়ে উঠলি কেন?????

—এসব কী?????

—কোন কথা না বলে মিটি মিটি হাঁসছে….

—কী হলো আসছ কেন????? বল এসব কী?????

যদিও জানি এসব অদ্রির কাজ, ঘর সুন্দর করে গোছান দেখে আর চিরকুট দেখেই বুঝতে পারছি….. তবুও মাকে তো আর বুঝতে দিলে চলবে না, ঐ মেয়েকে আমিও পছন্দ করি…… Bangla Romantic Golpo

—একটা ছবি…

—কার ছবি???

—কেন অদ্রির ছবি, তুই চিনিস না???

—কেন চিনব না, খুব ভাল করেই চিনি, কিন্তু এই মেয়ের ছবি আমার পিসি, ফোনে কেন ওয়াল পেপারে দেয়া থাকবে???? আর পার্সওয়ার্ডও নিজের নাম বসিয়ে দিয়ে গেছে, আবার চিরকুট লিখে গেছে কেন, এসবের মানে কী?????

—-দেখত কত্ত সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে, লক্ষী একটা মেয়ে। Bangla Romantic Golpo

সুন্দর লাগছে সেটা আমিও জানি, মনে মনে তো সেই ডান্স দিচ্ছি ।তাই বলে তোমায় বুঝতে দিব নাকী???

—লক্ষী না ছাই, খুব ভাল করে চেনা আছে, পথে ঘাটে ঝগরা করে মানুষের সাথে।

—কই আমার সাথে তো করে না, আর কেও তো বলেনা। খালি তুই বলিস।

—আমার সাথে করে বলেই তো বলি…. অন্য মেয়ের নামে তো বলি না!

—সে যায় হোক, মেয়েটা এখনই নিজের জিনিসের প্রতি কত্ত যত্নবান, সব আগলে রাখতে শুরু করেছেয় তোদের বিয়ের পর আমার সোনার সংসারটা বউমার হাতের ছোয়াই পূর্ণ হয়ে উঠবে।

—-কে তোমার বউমা, আরো একটা ছেলে আছে নাকী তোমাদের, কই বলনি তো কখনো???

—চুপ ফাজিল ছেলে, আমার একটাই ছেলে, আর তোর সাথেই অদ্রির বিয়ে হবে। আমরা সব ঠিক করে ফেলেছি…..

—ও মা, এইটা কী বল??? এই নিরীহ ছেলেটাকে ওরোকম ঝগরাটে মেয়ের হাতে তুলে দিলে তুমি সন্তান হারা হবে….

—যখন হয় তখন দেখব…..

Bangla Romantic Golpo

বলেই মা চলে গেলেন, আসুন আসল ঘটনা খুলে বলি। ও তার আগে পরিচয় পর্ব শেরে নেই….

আমি রাশেদুর ইসলাম, সবাই রাশেদ বলেই ডাকে….

আর যাকে নিয়ে এতখন মা ছেলের সলা পরামর্শ শুনলেন তিনি আমাদেরই ভারাটিয়ার মেয়ে “ মিস অদ্রিজা” এবার অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ে। ছোট্ট করলে “অদ্রি” ভাবছেন আমি ঐ মেয়ের নাম ছোট্ট করছি কেন???

আরে মসাই সব বলে দিলে হবে, কাহানী মে টুইষ্ট হে….

এই তো বছর খানিক আগের কথা, দুপুরে বাড়ি ফিরে দেখি গাড়ি থেকে মালামাল নামানো হচ্ছে, বুঝতে বাকী নেয় নতুন অতিথি মানে ভারাটিয়া আসছে, বেশ কিছু দিন হলো দোতলার একটা ফ্লোর খালি পড়ে আছে…..

তো আমি বাড়ি চলে এলাম, সন্ধায় উনারা আসলেন আমাদের বাসায়, সবার সাথে পরিচয় হলাম, আঙ্কেল আন্টি আর উনার ছেলে অভি….

কিছুখন কথা বলেই বুঝতে পারলাম মানুষ খুব মিশুক…..

অভির সাথে খুব ভাব হয়ে গেলো দ্রুত….. আমি বাড়ি থাকলে অভি আমাদের বাসাতেই থাকে বেশি….. (অভি অদ্রির ভাই)

তো একদিন বাইরে থেকে বাড়িতে ঢুকতে যাব তখনই কোন কিছুর সাথে ধাক্কা খেলাম, পড়ে গেলাম মাটিতে, কোন রকমে উঠে দাঁড়ালাম, কেও একজন চেচিয়ে বলল Bangla Romantic Golpo

—এই যে মিষ্টার চোখে দেখেন না????? না কী ক্যারেক্টার লুজ????

—আমি তো হা করে তাকিয়ে আছি….

—কী হলো কথা কানে যায় না???

—কীসের কথা আমি তো পরী দেখতে ব্যাস্ত…

—কী বললেন, ধাক্কা দিয়ে আবার ফ্লাট করা হচ্ছে????

Bangla Romantic Golpo

—আহ কী সুন্দর…

—এই যে মিষ্টার????

মুখের সামনে তুরি বাজিয়ে বলল…

সেই সাথে আমারো ঘোর কাটল…..

—কী মিয়া কই ছিলেন এত খন????

—এখানেই তো ছিলাম……

—এই বাড়িতে কী আগে তো কখনো দেখি নি??? মতলব কী???? চুরি টুরির ধান্দা আছে নাকী???

—আপনাকেও তো আগে দেখিনী, চুড়ি করে পালাচ্ছিলেন নাকী??? এত তারা….. Bangla Romantic Golpo

—দেখুন মুখ সামলে কথা বলুন…

—নিজে বলার সময় মনে ছিল না???

—যা সত্যি তাই তো বলছি…..

—এইটা আমাদের বাড়ি, আর আমাদের বাড়ি এসে আমাকেই চোর বানাচ্ছেন????

—এইটা আপনাদের বাড়ী???? হা হা হা….

—ইয়াক, কী বিধঘুটে মার্কা হাসি……

—কী বললেন….

—কীছু না যেখানে যাচ্ছিলেন যান…..

এর পর আমি আর না দাঁড়িয়ে চলে আসি, এর কিছুদিন পরে কপাল গুনে মহারাণী অদ্রিজার সাথে কোন এক সুভ মহুর্তে আবারো দেখা, কপাল গুণে সেই ধাক্কা……

বন্ধুদের সাথে শপিংয়ে গেছি, ঘুরতে ঘুরতে আবারো নিউটনের সূত্র অনুযায়ী কাজ হয়ে গেলো। কপাল খারাপ হলে যা হয়, একে তো পাব্লিক প্লেস তার উপর মেয়ে মানুষের সাথে।

Bangla Romantic Golpo

ভুল না থাকলেও ক্ষমা চাইতেই হলো, কিছু মানুষ যে ভাবে তাকাচ্ছিল এ ছাড়া উপায় ছিল না, ওদের দেখে মনে হচ্ছিল ওদের নিজের বোনের সাথে আমি ইচ্ছা করেই ধাক্কা খেয়েছি…..

মেয়ে তো সুযোগ পেয়ে ইচ্ছা মতন দিল…. কিচ্ছু করার নেই, মুখ বুজে মেনে নিলাম।

এতো গেলো সাধারন ঘটনার কিছু নমুনা, মাস ছয়েক আগের কথা, অদ্রিদের বাড়ি আমাদের পুরো পরিবারের দাওয়াত ছিল তো বাবা মা আর পেত্নীটা কে নিয়ে গেলাম।

খাওয়ার সময় কোন এক অসাধারন বিষয়ের মধ্য দিয়ে সেদিন নিস্তার পেয়েছিলাম, সবাই খাচ্ছে আর অদ্রির প্রশংসায় পারলে ষষ্ট মুখ…..

কারন রান্নাটা যে সে করেছে, কিন্তু আমার মুখে আর খাবার যাচ্ছে না।

কারন আমার খবারটা কেন জেন একেবারেই আলাদা।

মরিচের দাম কমেছে জানতাম কিন্তু এতটা যে কমেছে জানতাম না……

এর পরের দু দিন খাবার দেখলেই ভয় পেতাম, বাপরে বাপ এমন ধানি লল্কা আর দেখি নী….. বগুড়ার ঝালের চেয়েও বেশি…….

এবার বুঝেন এই মেয়ে যদি আমার কপালে জুটে আমার কী অবস্থা করে ছারবে?????

তবে আমারো দোষ ছিল কিছুটা, আমি যে ওর মায়ায় আটকে গেছিলাম, বেশ কিছুদিন ওর পেছনে ঘুরে ছিলাম, কিন্তু মেয়ে পাত্তা দেই নি।

Bangla Romantic Golpo

অভির থেকে অদ্রি কী পছন্দ করত না করত সেসব জেনে নিতাম, আর সেরকম ভাবেই চলতাম। সরা সরি কখনো কিছু বলিনী……

কয়েক মাস ঘুরেও যখন দেখলাম কোন ফল হচ্ছে না, তখনই বেছে নিলাম অন্য পথ…… Bangla Romantic Golpo

পুরাই U টার্ন নিলাম, এমন ভাব যেন ওকে চিনিই না, ব্যাস কিছুদিন পরেই লক্ষ করলাম কাজ হচ্ছে।

একদিন বিকেলে আমি আর অভি ছাদে বসে গান করছি, অনেক দিন হলো গিটারে হাত দেয়া হয়না তাই গিটারটা নিয়েই বসেছি…..

তাহসানের অভিমানি গানটা গাচ্ছিলাম….

ও অভিমানি…..

রুপোলি জলের প্রভাই হৃদয়, আমায় ভেতরে রাখতে।

দুপুর গড়িয়ে সন্ধা হলেও, আমায় ছুয়ে থাকতে।

সেখানে হঠাৎ মেঘের প্রতাপ, করলো আধারো উল্লাস।

কারনটা কী জানা হয় নি, সেই থেকে একা বসবাস….

ও ও অভিমানি…….

এত টুকু গাইতেই দেখি পেছন থেকে কেও একজন বলে উঠল

Bangla Romantic Golpo

—বাহ, এতদিন জানতাম শুধু ঝগরা করতেই জানেন এখন দেখছি অনেক সুন্দর গানও গাইতে পারেন……

—কেও ঝগরা করলে তাকে তো আর আদর করে গান শোনানো যায় না, ঝগরাই করতে হয়….

বলেই গিটারটা নিয়ে নিচে চলে এলাম।

এখন বুঝ কেমন লাগে….. এর কিছু দিন পরে আমার চাকরি হয়ে গেলো, কী আর করা এখন আর অবসর পাইনা তেমন, ব্যাস্ততাই দিন যায়, অন্য দিকে আমার প্রতি ওর ব্যাবহার কেমন যেন পরিবর্তন হচ্ছে, আর দেখা হলেও ঝগরা করে না, আমি তো সেই খুশি। ফর্মুলা কাজ করছে দেখে…….

কিছুদিন যাবত দেখছি একটু বেশিই করছে, আমার বোন শাম্নী আবার তাঁর বড় মাপের ভক্ত…..

তাই আমি কী কী পছন্দ করি না করি সব খবর ও পাড়ে পৌছেযায়।

এখন মাঝে মাঝে শাড়ি পড়ে, তাও আমার পছন্দের কালো শাড়ি, হালকা সাজ। পাগল করে দেয়ার মতন, আমি পাত্তা না দিলেও লুকিয়ে লুকিয়ে ঠিকই দেখি…..

কিছু দিন যাবত দেখছি বাড়িতে আমাকে নিয়ে একটু বেশিই আলোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে, কী ভাবে আমাকে সাধের ব্যাতেলর জীবন থেকে বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করানো যায়….. Bangla Romantic Golpo

আমার হবু সালা বাবু মারফত জানতে পারলাম তিনি নাকী আমার সালা হতে চলেছেন মানে আমার বাবা মা গিয়ে উনার বোনকে আংটি পড়িয়ে এসেছেন, এখন বুঝেন কাহিনী…….

আমি তো সেই খুশি, একবার বিয়েটা হোক তখন দেখবা মিসেস হওয়ার কী জ্বালা…….. আমারে জ্বালাইছে না সব সুদে আসলে তুলব…….

এর পরেই আমির প্রতি উনার ঝগরাটে মনোভব পাল্টে কেমন যেন অধিকার খাটাতে লাগলেন, আমি বাড়ি না থাকলে এসে আমার ঘর গোছাবে, ঘর পরিস্কার করবে। আমি কার সাথে চ্যাটিং করি সব চেক করবে…..

Bangla Romantic Golpo

সামনে কিছুই করে না, প্রতিদিন অফিস থেকে এসে এত্ত পরিপাটি রুম দেখে আমি অবাকের পর অবাক হয়, মা বা শাম্মী তো এইটা করবে না, কারন এতদিন ধরে কেও আমার ঘর গুছিয়ে দেই নী, তো একদিন ফোনটা স্যাইলেন্ট মুডে দিয়ে এক কোনে সেট করে রেখে অফিসে গেলাম। বাড়ি ফিরে ফোন চেক করতেই আমার চোখ কপালে…….

এর পর শুরু আরেক প্যারা…. শালা বাবুকে পড়াতে হবে আমায়, অথচ নিজের বোন আছে তাঁকে পড়ানোর উপযুক্ত, আবার আমার রুমে পড়ানো যাবে না, সেখানে নাকী গেম খেলেই সময় পার করে আমার শালা বাবু….

বাবার আদেশ তাঁদের বাড়ি গিয়েই পড়াতে হবে, কী আর করার, পড়েছি জমের হাতে খাবার খেতে হবে এক সাথে……

প্রথম কয়েক দিন ভালোই ছিলাম, এর পর থেকে আমি যতখন পড়ায় অদ্রি এসে উকি দিবে ১০ মিনিট পর পর….

একদিন বললাম..

—-এক গ্লাস পানি নিয়ে এসো তো, Bangla Romantic Golpo

আধা ঘন্টা পর পানি নিয়ে আসলো মহারাণী……..

—এত্তখন লাগে এক গ্লাস পানি আনতে????

—কী করব ফ্রিজে ঠান্ডা পানি ছিল না, তাই পানি ডিপে দিয়ে ঠান্ডা করে লেবু দিয়ে শরবত করে নিয়ে এলাম। হাজার হলেও হবু বরটা এই প্রথম কিছু চাইল…..

—এই মেয়ে তোমাকে কী ঠান্ডা পানি বা শরবত আনতে বলেছি?????

—ভাবলাম এত্ত গরমে অফিস থেকে ফিরে এখানে এসেছেন তাই।

—এত্ত বেশি বুঝ কেন তুমি….. যাও এখান থেকে…..

—কত্ত কষ্ট করে উনার জন্য শরবত করে নিয়ে এলাম কোথায় ধন্যবাদ দিবে না ঝাড়ি দিল। বলতে বলতে চলে গেলো……

—আমি মিট মিট করে একটু হেসে সরবতটা খেয়ে নিলাম, এখন ওকে ঝাড়ি দিতে বেশ ভালোই লাগে…. আগের মন ঝগরা করেনা অপরাধীর মতন মাথা নিচু করে থাকে…… খুব মজা লাগে ওরে ঝাড়ি দিতে…….

এর কিছু দিন পরের ঘটনা, অভিকে পড়ানো শেষ করে বের হব বলে অদ্রিকে ডেকে দরজা বন্ধ করে দিতে বললাম।

—এসে দরজা টা বন্ধ করে দিয়ে যাও……

Bangla Romantic Golpo

—এখন কই যান???

—বাড়িতে যাব, নাকী তুমি চাও এখানেই আজীবন থেকে যায়????

—ইচ্ছা করলে থাকতে পারেন, আর আপাতত এখন কোথাও যাওয়া হচ্ছে না আপনার, জামায়ের জন্য শ্বাশুরি মা রান্না করছে খেয়ে তারপর যাবেন….

—কী বললে আবার বল????

—মা আপনার জন্য রান্না করছে খেয়ে যেতে বলেছে।

—আমি খাবনা তুমি এসে দরজা বন্ধ করে দাও।

—আমার বলা উচিৎ বললাম, বাকীটা আপনার ইচ্ছা….

দরজা খুলে যেই বের হতে যাব তখনই পেছন থেকে হবু শ্বাশুরি মা ডাকলেন

—রাশেদ বাবা এখন কই যাও???

—জী বাড়ি যাব….

—একটু পরে যাও, তোমার জন্য রান্না করছি,আর একটু সময় লাগবে। নিশ্চয় অদ্রিটা তোমাকে বলেনি…..

—না না ও বলেছিল, আমিই……

—আচ্ছা তুমি গিয়ে অদ্রির সাথে গল্প কর, রান্না হলেই ডাকছি……

—কী আর করা, বিয়ের আগেই জামায় আদর খেতে হচ্ছে, কপালে থাকলে যে এই মেয়ের দৌলতে আরো কত কী দেখব……

Bangla Romantic Golpo

বসে বসে অদ্রির ফাও প্যাচাল সুনতে লাগলাম…… আপনি এরোকম কেন, এটা করেন কেন, ওটা করেন না কেন ইত্যাদি ইত্যাদি……

ঘন্টা খানিক পরে খাবার টেবিলে ডাক পড়ল, হাফ ছেড়ে বাঁচলাম, আর কিছুখন পরে হলে এই মেয়ে পাগল করে ছাড়ত…..

খেতে বসে পড়লাম আরেক মসিবতে….

এই আপনি খাচ্ছেন না কেন, মাংশ নিচ্ছেন না কেন, পোলাও নেন, এত কম খেলে হয়। কম খান বলেই এত শুকিয়ে যাচ্ছেন এমন খাবে দিচ্ছে যেন মানুষ না গরুরে খাওয়াচ্ছে……

নিরুপায় হয়ে কোন রকমে খেয়ে উঠলাম, যত দ্রুত পারলাম চম্পট দিলাম।

এরোকম ভাবেই চলছিল আমাদের…

একদিন অফিসের জন্য বেরোব, সে সময় অদ্রি এলো, সরাসরি আমার রুমে হাজির, অন্য সময় আমি থাকলে তেমন একটা আসে না… আসলেও আম্মুর সাথে ও শাম্মীর সাথেই থাকে……

—কীছু বলবে????

—বলছিলাম. আজ একটু সময় হবে, একটু শপিংয়ে যেতাম।

কয়েক দিন পরেই ওর জন্ম দিন…. তাই হয়ত কেনাকাটা করবে…..

আমার আবার অফিসে একটা মিটিং আছে, তাই সময় হবে না…..

—কালকে যায়, আজ অফিসে মিটিং আছে, আর অফিসিয়াল কিছু কেনাকাটা করতে সবে, সামনেই কম্পানির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী……. তাই বলছিলাম যদি কাল যায়……

—আচ্ছা আপনি যান, আমি অভিকে নিয়ে যাবনে……

বাংলা রোমান্টিক গল্প

বলেই চলেগেলো, মনটা খারাপ করে। আজই প্রথম কোনি কিছুর জন্য আবদার করল সেটাও পারলাম না…..

অফিসের মিটিং শেষ করে কেনাকাটা করতে গেলাম, সব শেষে অদ্রির জন্য একটা ব্রেসলেট কিনতে ঢুকলাম জুয়েলারি সপে।

ব্রেসলেট নিয়ে একজোড়া দুলের দিকে নজর গেলো, খুব পছন্দ হলো ওটা দেখার জন্য হাতে নিয়ে নিরার (আমার কলিগ, অদ্রির জন্য ব্রেসলেট পছন্দ করতে ওকে এনেছিলাম) কানে ধরে দেখছিলাম, তখনই পেছন থেকে কেও….

কী টাইমিং রে বাবা কপাল আমার…..

—দুলাভাই….. বলে ডাক দিল

পেছনে তাকিয়ে দেখি অভি আর অদ্রি দাঁড়িয়ে আছে….

—দেখছিস আপু বললাম না দুলাভাই হবে……(অভি)

— হুম ঠিকই বলেছিস। দেখছিস না উনি ব্যাস্ত চল এখান থেকে।(অদ্রি)

—অভি অদ্রি তোমরা এখানে?????

—নাচতে এসেছিলাম চলে যাচ্ছি…..

—যাবে কেন এদিকে এসো…..

—এই অভি চল এখান থেকে….

বলে হন হনিয়ে চলেগেলো…….

আমিও দুল আর ব্রেসলেট নিয়ে চলে এলাম। অফিসের সব রেখে সন্ধার পর বাড়ি ফিরলাম।

বাংলা রোমান্টিক গল্প

পরের দুদিন আর অদ্রির কোন খোজ পাইনি…. অভিও আর আসে না, দুলাভাই বলে ডাকে না…… নিশ্চয় নিরাকে আমার সাথে দেখে খুব অভিমান করেছে…..

পরের দিন সন্ধায় অদ্রির জন্মদিনের দাওয়াত আছে, তখন তো দেখা হবেই তখন না হয় বুঝিয়ে বললেই হবে…..

বাবা মা বোনের সাথে গেলাম অদ্রিদের বাড়ি, চারিদিকে চোখ বুলাচ্ছি অদ্রিকে খুজছি। কোথাও দেখছি না…..

অনেক ক্ষন পরে আসল, কালো শাড়ী, মাথায় হিজাব, হালকা মেকাপ, চোখে লম্বা করে করে কাজল দেয়া। ঘোর লাগানো এক দৃশ্য…….

এত মানুষের মাঝে কথা বলা যাবে না, তাই একটু ভীর কমার অপেক্ষা করতে লাগলাম।

কিন্তু ওর কোন পাত্তায় পেলাম না, আমি গেলেই এড়িয়ে যায়……

মনটা খারাপ হয়ে গেলো, তাই অভিকে বলে ওর হাতে ব্রেসলেট আর দুল দিয়ে চলে এলাম। কিছু খেলামও না….. অন্যদিন হলে তো গরুর মত খাওয়াত আজ এত্ত অভিমান একবার কথা বলার সুযোগ ও দিল না। বাবা মা শাম্মীকে রেখেই চলে এলাম।

১১টার দিকে তাঁরা ফিরলেন,

—ভাইয়া আব্বু ডাকছে তোকে… আর অদ্রি আপু এগুলো ফেরত দিয়েছে। বলে দুল আর আংটির প্যাকেটটা বিছানার উপর রাখল…

—যা আমি আসছি….

বসার রুমে গিয়ে দেখি বাবা মায়ের মুখটা কেমন যেন বিষন্ন।

সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই দিলেন কষে এক থাপ্পর…..

—আমাদের মান সন্মানের দিকে তো একবার তাকাতি, আগেই বলতি তোর কাওকে পছন্দ আছে, তাহলে আমরা এই বিয়ে ঠিক করতাম না। বলেই বাবা মা আমাকে কিছু বলতে না দিয়ে চলে গেলেন।

বাংলা রোমান্টিক গল্প

পরে বোনের কাছে সব শুনলাম, আমি নাকী অন্য কাওকে ভালবাসি তাই অদ্রি বাবা মাকে বলেদিয়েছে সে এই বিয়ে করবে না……. আমি যাকে নিয়ে শপিং মলে ঘুরি তাকেই যেন বিয়ে করি……

কথা গুলো শুনে কষ্ট লাগার বদলে হাঁসি পাচ্ছিল, এই সামান্য বিষয় এতদুর গড়িয়েছে….

রাতে আর ঘুম হলো না। অফিসেও গেলাম না। দুপুরে কথাটা মনে পরল……

তাই অদ্রিদের ফ্লাটে গেলাম, বেল দিতেই অভি দরজা খুলে দিল।

—তোমার আপু কই???

—ওর ঘরে আছে…..

সোজা চলে গেলাম। গিয়ে দেখি শুয়ে আছে, আজ আর নক করলাম না ওর রুমে…. সোজা প্রবেশ করলাম রুমে।

হাত ধরে টেনে তুললাম। উঠে বসে আমাকে দেখে ও আমার ব্যাবহার দেখে মনে হয় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে….. চুপ করে বসেই আছে……

—কী পেয়েছো তুমি???? যখন যা ইচ্ছা তাই করবা???? কী করছি আমি??? ঐ মেয়েটা কে জান??? আমার কলিগ, তোমার জন্য ব্রেসলেট আর দুল কিনতেই ওকে নিয়ে গেছিলাম, আর তুমি কী করলে????? একবার তো আমাকে বলতে দিতে, তাঁপর সিদ্ধান্ত নিতে। আচ্ছা বেশ করেছ, তোমার জীবনের সিদ্ধান্ত তুমি নিয়েছ….. পারলে ক্ষমা করে দিও আসি……

বলেই চলে এলাম, বাজারের দিকে এলাম মানুষের মাথে থাকলে মনটা ভাল থাকবে…..

রাত ১০ টার দিকে বাড়ি ফিরলাম, বাড়ি ভর্তি লোকজন, অনেক আত্নীয় স্বজন। কিছুই বুঝলাম না……

সোজা নিজের রুমে গেলাম, খাটের উপর অদ্রি বসে আছে, নতুন বউয়ের সাজ……

বাংলা রোমান্টিক গল্প

আমি যেতেই সামনে এসে দাড়াল, মাথা নিচু করে…

—তুমি এখানে কী করে???? বের হও আমার রুম থেকে….

—সরি আমি বুঝুনি….

—বুঝতে হবে না, যাও বলছি সামনে থেকে…..

—বললাম তো সরি, আর হবে না। আমি কী করব এতটা ভালবাসি যে অন্য কাওকে আপনার সাথে দেখে সহ্য করতে পার নি…..

—বেশ করেছ, এখন যাও। আমাকে একা থাকতে দাও একটু। বলতে দেরি।

অদ্রি আমার পায়ে পড়তে দেরি নেয়….

—প্লিজ এবারের মতন আমাকে ক্ষমা করে দেন। আর জীবনেও আপনাকে সন্দেহ করব না…… দয়া করে এবারের মতন ক্ষমা করেন…

বলছে আর কান্না করছে। কয়েক ফোটা পানি পায়ের উপরেও পড়ল। ধরে সামনে দাঁড় করালাম।

বাংলা রোমান্টিক গল্প

—মনে থাকবে তো????

—হুম থাকবে, (চোখ ভর্তি পানি)

—আর যদি এমুন কর তখন?????

—আপনি যা বলবেন তাই হবে……

পাগলিটা আমার, কাজল লেপ্টে যা তা অবস্থা…. চোখের পানিটা মুছেদিয়ে বুকে টেনে নিলাম……

—এই যে রোমিও জুলিয়েট এখানে কী হচ্ছে দরজা খোলা রেখে?????(শাম্মী)

দুজন দুজনকে ছেড়ে দিয়ে সড়ে দাড়ালাম।

—আর লজ্জা পেতে হবে না, বাকীটা বিয়ের পর হবে। এখন দুজনেই রেডি হন…….

বাসর ঘরে ঢুকতেই অদ্রি এসে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে গেল, বাধা দিয়ে বুকে টেনে নিলাম।

—এইটা তোমার স্থান, পায়ে নয়… বুঝলে মিষ্টি পাগলিটা????

—হুম বুজলাম আমার মিষ্টি পাগলটা……

এরপর দুজনে অযু করে নামাজ পড়ে খাটে এসে বসলাম……

—এই শুনেন না…

—হুম বলো না….

—একটা গান শোনান না….

—এখন, এখানে????

—হুম….

—না চলো ছাদে যায়……

—চলেন……

দুজনে ছাদে চলেগেলাম সাথে গিটার টা, আজ আবার নতুন করে সুর বাঁধব…..

বাংলা রোমান্টিক গল্প

দোলনায় গিয়ে বসলাম, অদ্রি কাধে মাথা রাখল আমি শুরু করলাম…. হালকা জোস্নার আলো ছাদটাকে আলো আধারের এক মায়া পুরি বানিয়ে রেখেছে…..

হৃদয়ে পেতেছি প্রেমেরি বিছানা আমি তোমার হতে চায়, দুজনে দুজনার হাতে হাত রেখে, সারা জীবন চলতে চায়…..॥

যদি কখনো মরনো আসে চাইব সেদিনও তোমায়…..॥

অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন,

পেলাম খুজে এ ভুবনে আমার আপন জন……॥

আদুরে আলাপে মানিনা তোর দুরে থাকা….

জ্বলে যায় পুরে যায় সহেনা বেঁচে থাকা…..॥

যদি কখনো মরনো আসে চাইবো সেদিও তোমায়….. অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন, পেলাম খুজে এ ভূবনে আমার আপন জন…….

মনেরি শহরে তোকে ছাড়াতো ভাবিনী, চলে আয় গুনে যায় তোর আর আমার প্রেম কাহিনী…..॥

যদি কখনো মরনও আসে চাইব সেদিও তোমায়…॥

অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন পেলাম খুজে এ ভূবনে আমার আপন জন। বাংলা রোমান্টিক গল্প । Bangla Romantic Golpo

………………….সমাপ্ত……………………….

One thought on “Bangla Romantic Golpo । ঝগরাটে পাগলির মিষ্টি ভালোবাসা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights