হঠাৎ বিয়ে
হঠাৎ বিয়ে

হঠাৎ বিয়ে Bangla Romantic Golpo । হঠাৎ অর্পা আপু আমাকে একটা কষিয়ে চড় দিয়ে বলল

-আমার কাছ থেকে সব ছিনিয়ে নিয়ে এখন নাটক করা হচ্ছে?লজ্জা লাগে না তোর?

আমার জীবনের এ অবস্থা করে আমার অরন্যকে আমার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে নিজের করেছিস আর এখন নাটক করছিস যে আমি কোথায় ছিলাম?

বিয়ের পর ভালোবাসার গল্প পার্ট-2

তোকে তো নাটকের সেরা পুরুষ্কার দেওয়া দরকার।অনেক নাটক শিখে গিয়েছিস।নাটক করে আমার জীবনের ১২ টা বাজিয়ে অরন্যের গলায় ঝুলে পড়েছিস।

তুই ভালো করেই জানতিস যে তোর যে চেহারা তোকে অরন্যর মত কেউ বিয়ে করবে না।তাই এত বড় নাটক করেছিস।

লজ্জা লাগে না এখন আমাকে এসব জিজ্ঞেস করছিা।আমাকে খুব হিংসা করতি তাই না?হিংসাকাতর হয়ে এমন করেছিস তো।নিজের বোনের সাথে এমন করতে লজ্জা করল না তোর।

আমি অর্পা আপুর কথা কিছুই বুঝতে পারছিলাম না যে, অর্পা আপু কি বলছে।মাথায় যেন কোন কিছুই কাজ করছে না।

অর্পা আপুই বা আমাকে এসব দোষারূপ করছে কেন।আমি তো এরকম কিছুই করে নি।আমি অর্পা আপুকে বললাম

-আপু কি হয়েছে এমন বলতেছিস কেন?আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।আমি তো তোর কথার মানে বুঝতে পারছি না। হঠাৎ বিয়ে

আমাকে কেন এসব বলছিস?আমি কেন নাটক করতে যাব।আমি কেন তোর ক্ষতি করতে যাব।

আপু আমাকে মুখটা বাকিয়ে রাগান্বিত হয়ে জবাব দিয়ে বলল

-এখন তো অরন্যের সামনে ন্যাকা সাজবিই।একদম কিছুই বুঝছিস না।আর বুঝবিই বা কেমনে তুই তো কিছুই করিস নি তাই না?

-আপু আমি তোর কথার মানেই বুঝছি না।সত্যিই আমি কিছু করে নি।কেন এরকম বলতেছিস তুই।আমি সত্যিই কথাগুলোর অর্থ বুঝতে পারছি না।

পাশ থেকে অরন্য বলে উঠল

-অর্পা তুমি আমাকে বল কি হয়েছে?আর অনন্যাকে এমন বলতেছ কেন?অনন্যা কি করেছে?আমাকে একটু খুলে বল।

অর্পা অরন্যের দিকে অসহায় এর মত তাকিয়ে রাগ আর গম্ভীর গলায় বলল

-অনন্যাকেই জিজ্ঞেস করুন সেই না হয় আপনার উত্তর দিয়ে দিবে।আমার থেকে ভালো তো সে বলতে পারবে।

কারন নাটকের ডিরেক্টর তো অনন্যা ছিল।আমি তো ছিলাম ভুক্তভোগী।

বিয়ের পর ভালোবাসার গল্প

অরন্য আমার দিকে তাকাল।অরন্যের মুখে আমার প্রতি এবার সন্দেহের ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।বুঝায় যাচ্ছে সে আমাকে অনেক সন্দেহ করতেছে।সন্দেহ মাখা মুখ নিয়ে বললেন

-অনন্যা কি করেছ তুমি?অর্পা এসব কি বলছে?সত্যিটা বল, কি হয়েছে?আমার কাছে সবটা খুলে বল।নাটক করবে না একদম।ভনিতাও করবে না।

-আপনি বিশ্বাস করেন আমি কিছু করে নি।অর্পা আপু কেন এমন বলতেছে সেটাও বুঝতেছি না।

আপনি আমাকে ভুুল বুঝবেন না।আর অর্পা আপু তুই কি বলতেছিস সত্যিই আমি বুঝতেছি না।এমন কেন বলতেছিস তুই?

খেয়াল করলাম অর্পা আপু খুব কান্না করছে।কেন এভাবে কাঁদছে সেটাও বুঝতে পারতেছি না।অরন্য অর্পা আপুকে শান্ত্বণা দিয়ে বললেন

-অর্পা তুমিই বল কি হয়েছে?

অর্পা আপু কাঁদতে কাঁদতে অরন্যকে বলল

-কি আর বলব বলেন?আমার তো সব শেষ হয়ে গিয়েছে এ কাল নাগীনির জন্য।

এখন আর বললেও সব ঠিক হবে না।আমি চাই না আপনাদের মধ্যে কোন জামেলা হোক।আপনারা চলে যান।

-অর্পা তোমাকে বলতে বলেছি বল।অনন্যা কি করেছে বল। হঠাৎ বিয়ে

খেয়াল করলাম অর্পা আপু এবার খুব কাঁদছে।কাঁদতে কাঁদতে অরন্যকে বলল

-আপনার কি বিশ্বাস হয় আমি বিয়ের দিন বয়ফ্রেন্ড নিয়ে পালিয়েছে।

অরন্য শান্ত স্বরে জবাব দিল

-সে তো আমি বিশ্বাস করি নি।কারন তুমি তো বিয়ের আগে আমার সাথে ফোনে অনেক কথা বলতে।কিন্তু হঠাৎ কি এমন হল?আর কোথায় গিয়েছিলে তুমি?

খেয়াল করলাম অর্পা আপু এখন ভীষণ কাঁদছে। কাঁদতে কাঁদতে অর্পা আপু যা বলল সেটা শুনে আমার হার্টবিট টা বেড়ে গেল।

মনে হতে লাগল এখনেই দম বন্ধ হয়ে যাবে।আপু এসব কেন বলছে কিছুই বুঝতেছি না।আমার বুকটা কষ্টে চিড়ে যাচ্ছে কথাগুলো শুনে।কারন আপু বলল

-আমি কোথায় গিয়েছিলাম সেটা কি আপনি জানতে চান।

অরন্য শান্ত হয়ে জাবাব দিল

-হ্যা জানতে চাই।

তখন আপু বলল

-সেদিন আমি ঘরে বসে সাজতেছিলাম।হঠাৎ করে অনন্যার ফোন থেকে মেসেজ আসল আপু একটু লুকিয়ে বের হ আরন্য ভাইয়া আসছে তোমার সাথে দেখা করতে তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে।

বিয়ের গল্প

আমিও সরল মনে বের হলাম।আমার ভুলটা ছিল যে আমি আপনাকে কল দেয় নি।বের হয়ে খেয়াল করলাম বাইরে কেউ নেই।আস পাশ ফাঁকা।

অনন্যাকে কল দিলাম সে ও ফোন তুলছে না।হুট করে অনন্যার ফোন থেকে মেসেজ আসল একটু বাগানের দিকে আয়।অরন্য এখানে দাঁড়িয়ে আছে।

আমিও বাগানের দিকে গেলাম।কিন্তু কোথাও কাউকে দেখলাম না।আমি সামনের দিকে একটু এগুলাম।তারপর……

এ বলে অর্পা আপু আবার হেচঁকি তুলে কাঁদতে লাগল।অরন্য তখন অর্পা আপুর হাতটা ধরে বললেন

-বল তারপর কি হল?কান্না থামাও। হঠাৎ বিয়ে

অর্পা আপু কান্না থামিয়ে বলল

-তারপর খেয়াল করলাম কয়েকটা লোক আমাকে ঝাপটে ধরল।আমার মুখ চেপে ধরল।আমি চোখেও কিছু দেখতে পারছিলাম না।

কখন যে জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম টের পেলাম না।জ্ঞান ফিরার পর খেয়াল করলাম আমি রনকদের বাসায়।

অরন্য বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন

-রনক টা কে?

অর্পা আপু বলল

-রনক হল অনন্যার বেস্ট ফ্রেন্ড।যদিও রনক অনন্যার ২ বছরের বড় তবুও তাদের ভালো ফ্রেন্ডশিপ ছিল।রনক আমাকে অনেক পছন্দ করত।

অনন্যাকে বেশ কয়েকবার বলেছিল ও।কিন্তু আমি রাজি হয় নি।আর সে সুযোগটাই অনন্যা নিয়েছে।

আমার বিয়ের দিনে আমাকে গায়েব করে দিয়েছে।আর ফাঁসিয়ে আপনাকে বিয়ে করেছে। হঠাৎ বিয়ে

অনন্যা যে আমার সাথে এমন করবে আমি ভাবতেও পারি নি।রনককে দেখে আমি চমকে গিয়ে রনক কে জিজ্ঞেস করলাম

-তুমি আমাকে এখানে নিয়ে এসেছ কেন?

-আমি তোমাকে ভালোবাসি অর্পা।আমি চাই তুমি আমার হও।দেখ অনন্যাও চাই তুমি আমার হও।তাই তো ও আমাকে সাহায্য করেছে।

আমি তখন অবাক হয়ে গেলাম অনন্যার কথা শুনে।অবাক হয়ে রনককে জিজ্ঞেস করলাম

-অনন্যা তোমাকে সাহায্য করেছে আমাকে তুলে আনতে?আমি বিশ্বাস করি না।

-হ্যা আমি সত্যি বলছি।বিশ্বাস, অবিশ্বাস তোমার ব্যাপার।আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই আর সন্ধ্যায় তোমাকে বিয়ে করব।আমি সবকিছু ঠিক করে রেখেছি।

এ কথা গুলো বলে অর্পা আপু আবার হেঁচকি তুলে কাঁদতে লাগল।

অরন্য অর্পার হাতটা আরও ভালো করে ধরে বললেন

-এরপর তুমি ঐখান থেকে কিভাবে এসেছ?

-এরপর আমি কোনমতে ঐখান থেকে রনক এর চোখ ফাঁকি দিয়ে বের হলাম।

ভালোবাসার গল্প

বেরিয়ে বাড়ি এসে দেখি আপনার সাথে অনন্যার বিয়ে হয়ে গিয়েছে আর সবাই ভেবে নিয়েছে যে আমি পালিয়ে গিয়েছি।

সেদিন আমার মুখটা দেখানোর মত ইচ্ছা আর আমার ছিল না।তাই বাড়িতে আর যায় নি।

সরাসরি ফ্রেন্ডের বাসায় চলে যাই।সেখানে থেকে একটা কাজ যোগাড় করি আর এখানে একটা বাসা ভাড়া করে থাকা শুরু করলাম।

-তুমি একবার আমাকে বলতে পারতে অর্পা।

-কি বলব আপনাকে?কোন মুখে বলতাম আপনাকে?এতক্ষণে তো সব শেষ হয়ে গিয়েছিল।অনন্যার সাথে আপনার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল।

আমার তো এখানে বলার কিছু ছিল না।আমি নিজের বোনের সর্বনাশ তো করতে পারি না। হঠাৎ বিয়ে

অনন্যা আমার সাথে যা করেছে আমি তো তা করতে পারি না।কারন অনন্যা আমাকে বোন না ভাবলেও আমি তো তাকে বোন ভাবি।

আমি অর্পা আপুর কথা শুনে চিৎকার করে কেঁদে বলতে লাগলাম

-আমি এসব কিছু করি নি।

অরন্যও আমার গালে কষিয়ে একটা চড় বসিয়ে বললেন

-তুমি এতটা নীচ ভাবতে পারি নি।সামান্য টাকার জন্য নিজের বোনের সাথে এমন করতে পারলে।লজ্জা করল না তোমার এমন করতে?আর এখন সব অস্বীকর করছ।

আমি অরন্যকে হাত জোর করে বললাম

-সত্যিই আমি এমন কিছু করে নি। বিশ্বাস করেন আমাকে।অর্পা আপু তুই আমার ব্যাপারে কেন এসব মিথ্যা বলছিস।

কেন অরন্যের চোখে আমাকে খারাপ বানাচ্ছিস।দেখতে অসুন্দর হতে পারি কিন্তু উচ্চ আশা আমার ছিল না।

টাকা পয়সার মোহ কখনও ছিল না।তাহলে কেন এমন বলতেছিস।

কি ক্ষতি করেছি আমি তোর।তুই তো আমাকে চিনিস আমি কেমন?তাহলে এমন কেন বলছিস?

সবার আগে আমার গল্প পড়তে চাইলে “নীল ক্যাফের ভালোবাসা” পেজে পাবেন।

জবাবে অর্পা আপু বলল

-কি ক্ষতি করেছিস জিজ্ঞেস করতে লজ্জা লাগছে না তোর।আর কি ক্ষতি করা বাকি রাখছিস।যা তুই আর অরন্য গিয়ে সংসার কর।আর এখানে আসিস না।

ওপাশ থেকে অরন্য বলে বসলেন

-আমার সাথে অনন্যা যাবে না।তুমি যাবে। হঠাৎ বিয়ে

বিয়ের পর ভালোবাসার গল্প

অর্পা আপু অবাক হয়ে উত্তর দিল

-আমি কোথায় যাব?

-আমার সাথে আমার মায়ের কাছে যাবে।আর মাকে গিয়ে সব বলবে।আর তোমাকে যে কষ্ট অনন্যা দিয়েছে সেটা আমি অনন্যাকে ফেরত দিব।তুমি আমার সাথে চল।

-নাহ আমি চাই না আপনাদের মধ্যে কোন জামেলা হোক।

-জামেলা তো তুমি কর নি জামেলা করেছে অনন্যা।সেটার শাস্তি তুমি কেন পাবে?

আমি অরন্যকে অনেকবার বুঝানোর চেষ্টা করলাম।কিন্তু বুঝাতে পারলাম না।অরন্য অর্পা আপুর কথায় বিশ্বাস করেছিল।আর অর্পা আপু কেনই বা আমার নামে মিথ্যা বলল সেটাও বুঝতে পারছিলাম না।অরন্যেকে বুঝানোর হাজার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছি।অরন্য অর্পা আপুর হাত ধরে বের হয়ে গেল।আর আমাকে যে রিং টা পড়াতে চেয়েছিল সেটাও মেঝেতে পড়ে গেল।অরন্য সেটা ফেলেই চলে গেল।আমি রিংটা হাতে নিয়ে কাঁদতে লাগলাম।আর বলতে লাগলাম “কেন আমার সাথে এমন হল কি ক্ষতি করেছি আমি।কেন আমাকে এভাবে কষ্ট দেওয়া হল।আমি তো কারও কোন ক্ষতি চাই নি।” হঠাৎ বিয়ে

কাঁদতে কাঁদতে আমি দৌঁড়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হলাম। খেয়াল করলাম অরন্য আর অর্পা আপু গাড়ি নিয়ে চলে গিয়েছে।

আমার বুকে বেশ কষ্ট হতে লাগল।এক তো অরন্য আমাকে ফেলে রেখে গিয়েছে তার উপর অরন্য জানত আমি এখানের কিছু চিনি না।কিভাবে পারল আমাকে আমার ভূতমশাই ফেলে রেখে যেতে।আমি তো কিছু করি নি। আমার ভূতমশাই কেন আমাকে বিশ্বাস করল না।কেন আমাকে কষ্ট দিল?আমি তো অর্পা আপুর কোন ক্ষতি করে নি।আমি তো আপুর সাথে এমন করি নি।তাহলে আপু কেন এমন বলল?কেন আমার অরন্যকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে যেতে চাইল।এত কষ্ট কেন দিল আমায়।আল্লাহ আমি তো কোন প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছি না।আমি কি করব তুমি বলে দাও।

এ মুহুর্তে হাতে আমার একটা টাকাও ছিল না যে যাব।তবুও একটা সি এন জি ভাড়া করলাম।ভাড়া করে বাসায় গেলাম।বাসার দারোয়ানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাড়া দিলাম।

হঠাৎ বিয়ে

ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখলাম

ঘরের ভিতর গিয়ে দেখলাম রনক ভাই দাঁড়িয়ে আছে।রনক ভাই কে দেখে আমার মাথায় যেন আগুন ধরে গেল।কারন রনক ভাই এর জন্যই অর্পা আপু আমাকে ভুল বুঝল।নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না।রনক ভাই রে গিয়ে বললাম

-আপনার কি দরকার ছিল এত বড় নাটক করার?অর্পা আপুকে কেন ভুল বুঝিয়েছেন?কি ক্ষতি করেছিলাম আপনার।

খেয়াল করলাম রনক ভাই কোন কথায় বলছে না।আমার রাগটা যেন আরও বেড়ে গেল।মন চাচ্ছে রনক ভাইকে কষিয়ে একটা চড় দেই।তাই করতে নিলাম।কিন্তু হুট করে অরন্য এসে পিছন থেকে আমার হাতটা ধরে ফেলল।আমি অরন্যের দিকে ফিরতেই অরন্য আমাকে জড়িয়ে ধরল।আমি বুঝতে পারছিলাম না কি হচ্ছে এসব?অরন্য জড়িয়ে ধরার সাথে সাথে খেয়াল করলাম।চারদিকের আলো আরও বেড়ে গেল।অর্পা আপু, রনক ভাই,আমার কিছু বান্ধবী সবাই হাত তালি দিয়ে বলতেছে “হ্যাপি বার্থ ডে অনন্যা” হঠাৎ বিয়ে

এখনও আমার মাথায় কাজ করছে না এসব কি হচ্ছে?মাথাটা খুব ঝিমাতে লাগল।পরক্ষণেই জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফিরার পর খেয়াল করলাম অরন্য আমার পাশে চিন্তামগ্ন হয়ে বসে আছে।আমার জ্ঞান ফিরার সাথে সাথে আমাকে বললেন

-অনন্যা ঠিক আছ তো তুমি?কিছু হয় নি তো?

হুট করে সবার এত পরিবর্তন দেখে কেন জানি না অবাক লাগছে।খেয়াল করলাম সামনে রনক ভাই আর অর্পা আপু ও দাঁড়ানো।আমি ওদের দেখে রেগে যেতে নিলাম।অরন্য আমাকে শান্ত স্বরে বললেন

-অনন্যা ওদের কিছু বল না।ওরা এতক্ষণ যা করেছে আমার কথায় করেছে।

অরন্যের কথাগুলো শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লাম।কি বলে এসব!মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে সব!।আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম

-মানে?আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

অরন্য একটু মুচকি মুচকি হেসে বললেন

-কিছু বুঝতে হবে না।আগে তোমাকে একটা সংবাদ দেই।অর্পা কোথায় গিয়েছিল সেটা তো সবার অজানা ছিল।অর্পা রনকের সাথে পালিয়েছিল।

আমি কথাটা শুনে বেশ অবাক হলাম।তাহলে একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা কি আমার স্বপ্ন ছিল

-ওরা যদি বিয়েই করে নেই তাহলে একটু আগে এমন বলল কেন? হঠাৎ বিয়ে

অর্পা আপু পাশ থেকে বলে উঠল

-তুই একটু শান্ত হ আমি সবটা বলছি।

হঠাৎ বিয়ে

আমি নিজেকে শান্ত করে বললাম

-এবার বল।

-রনকের সাথে আমার রিলেশন ছিল তিন বছরের।রনক তোকে কিছু বলে নি কারন আমরা তোকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম।কিন্তু হুট করে আমার বিয়ে ঠিক করাতে সব ঝামেলা পাকালো।কি করব বুঝতে পারছিলাম না।প্রচন্ড সিদ্ধান্তহীনতাই ভুগছিলাম।শেষমেষ বিয়ের দিন সকালে মনে হল নিজের ভালোবাসাকে এভাবে কুরবানী করা ঠিক হবে না।তাই রনক কে ফোন দিয়ে বললাম

-রনক তুমি কি চাও আমরা এক হই।

-অর্পা তুমি এখনও এ কথা জিজ্ঞেস করছ?তুমি যা করতে বল তাই করব তবুও আমাকে ছেড়ে যেও না।

-তাহলে বাগানের কাছে চলে আস।

রনক আমার কথা শুনে বাগানের কাছে আসল।আর আমি সুযোগ মত রনকের হাত ধরে পালিয়ে গেলাম।

-তাহলে একটু আগে যে কাহিনী বলেছিলি সেটা কি ছিল?

আমার প্রশ্নের জবাবে সবাই প্রথমে একটু হেসে নিল।সবার হাসি দেখে এবার সত্যিই আমার গা জ্বলে যেতে লাগল।রেগে গিয়ে বললাম

– কি হয়েছে বলবি তো?

অরন্য মুচকি মুচকি হেসে বললেন

-৪ টা মাস খুব জ্বালিয়েছ আমাকে।তাই এর শাস্তি তো ভালোবাসি শব্দটা বলার আগে দিতেই হত।আর একটু সারপ্রাইজ দেওয়ার ও বাকি ছিল।হুট করে অর্পার সাথে দেখা।তখন অর্পাকে নিয়েই প্ল্যানটা করি। হঠাৎ বিয়ে

-এরকম প্ল্যানটা কে করল শুনি?

অরন্য হাসি হাসি মুখ নিয়ে বলল

-আমি করেছি।

এরকম একটা প্ল্যান করেছে বলে অরন্যের প্রতি আমার খুব অভিমান জমে গেল।অভিমানে গাল ফুলিয়ে বসে রইলাম।অর্পা আপু বলল

-আচ্ছা অনন্যা থাক তুই আমি আর রনক বাইরে গেলাম।তোদের মান অভিমানের পালা শেষ কর।আর চড়টা দেওয়ার জন্য সরি জোরে লাগে নি তো।নাটক করতে গিয়ে ক্যারেক্টারের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলাম।

অর্পা আপুর কথা শুনে অভিমান টা আরও বেড়ে গেল।অভিমানী গলায় বললাম

-হয়েছে জুতা মেরে গরু দান করতে হবে না।

হঠাৎ বিয়ে

অর্পা আপু হাসি দিয়ে রনক ভাইকে নিয়ে চলে গেল।আর আমি গাল ফুলিয়ে বসে রইলাম।অরন্য আমার দিকে তাকাল কিন্তু অভিমানের জন্য আমি আর অরন্যের দিকে তাকালাম না।অরন্যের চোখ যেন আমার থেকে সরছে না।আমি যেন তার চোখের নিশানা থেকে নিজেকে সরাতে পারছিলাম না।ক্রমশ আমার অভিমান কমতে লাগল।তবুও অভিমান টা ধরে রাখার নিরলস কসরত করে যাচ্ছি।অভিমানটা স্থির রাখার অনেক চেষ্টার পর ও কেন জানি না অভিমান টা ধরে রাখতে পারলাম না।তাই অরন্যকে জড়িয়ে ধরে অভিমানটা চোখের বৃষ্টি করে নামিয়ে দিলাম।ফুপাতে ফুপাতে বললাম

-আমাকে এভাবে কষ্ট দেওয়ার কি কোন দরকার ছিল।আমি যদি হারিয়ে যেতাম ঐ জায়গা থেকে?

-আমি তো আমার অনন্যাকে চিনি সে যে বাসা খুঁজে ফিরতে পারবে সেটা আমার ভালোই জানাই ছিল।সারপ্রাইজ টা কেমন লাগল।

-খুব বাজে লেগেছে।এভাবে আর সারপ্রাইজ দিবেন না।নাটক করতে গিয়ে তো রিংটাও ফেলে এসেছিলেন।

খেয়াল করলাম অরন্য আমার এ কথা শুনে অট্ট হাসি দিচ্ছে।

-কি ব্যাপার এত হাসি দিচ্ছেন যে। হঠাৎ বিয়ে

-হাসি দিচ্ছি এজন্য আমি যে রিং টা ফেলে এসেছি সেটা নকল রিং ছিল আর আসল রিংটা আমার কাছে।নাটকটা বাস্তমুখী করার এক অভিন্ন প্রচেষ্ঠা আর কি।হাহাহা।

এত বড় ছলনা যান আর কথায় বলব না আপনার সাথে।অরন্য এবার আমাকে জোরে জড়িয়ে ধরল। মনে হচ্ছে তার নিঃশ্বাসের শব্দ আমি শুনতে পাচ্ছি।তার হার্টবিটের আওয়াজ আমি শুনতে পাচ্ছি।এবার কানের কাছে মুখটা হালকা করে নিয়ে বললেন

-আই লাভ ইউ পেত্নী।

এবার যেন তার প্রতি থাকা সকল অভিমান আমার মনে দুমরে মুচরে গিয়ে ভেঙ্গে গেল।অভিমানটা টিকিয়ে রাখার ব্যার্থ চেষ্টা করলাম।কিন্তু পারলাম না।আমিও ফিস ফিস করে বললাম

-আই লাভ ইউ টু ভূতমশাই।আমার মত কালো মেয়েকে ভালোবাসলেন কিভাবে?

-মানুষের দৃষ্টি সুন্দর, অসুন্দরের বৈষম্য করে।আমার দৃষ্টিতে তুমি সবচেয়ে বেশি সুন্দরি।

কথাটা শুনার পর নিমিষের মধ্যে কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম।কিছু বলতে চাইলেও আর বলতে পারছিলাম না।কারন গলাটা থরথর করে কাঁপতে লাগল।অরন্য আমাকে এবার চোখটা হাত দিয়ে চেপে ধরল।আর বললেন

-আমার সাথে একটু চল।

হঠাৎ বিয়ে

-কোথায়?

-আগে চল তো তারপর বলি।এত নাছোরবান্দা মেয়েরে বাবা।এত বকবক করতে পারে।

-হয়েছে হয়েছে আর বকবক করবনা। এবার নিয়ে যান।

চোখটা চেপে ধরে আস্তে আস্তে আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না।হুট করে চোখ খুললাম।খেয়াল করলাম আমি ছাদে।চারদিকে মোমবাতি দিয়ে সাজানো।অর্পা আপু আর রনক ভাইয়া বাজি ফুটাতে লাগল।পাশে মা দাঁড়িয়ে আছে উনার পাশে একজন ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছে আমার বুঝতে বাকি রইল না উনি আমার শ্বশুর মশাই।আমি দৌঁড়ে গিয়ে উনাদের সালাম করলাম।অর্পা আপু আর রনক ভাইয়া আমার সামনে একটা কেক আনল আর বলল

-ভূত আর পেত্নী দুজন মিলে কেকটা কাটেন।আর অরন্য ভাইয়া আপনি অনন্যাকে রিং পড়িয়ে দিন।আর অনন্যা তোর হাতের নকল রিং টা ছুরে ফেলে দে

এত বোকা কবে হয়েছিস।সামান্য নাটক বুঝতে পারলি না।তুই তো বেশ নাছোরবান্দা আর বুদ্ধিমতি ছিলি। হঠাৎ বিয়ে

আমি লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম।বিড়বিড় করে বললাম প্রেমে পড়লে যে মানুষ বলদ হয় সেটা আমাকে দিয়েই প্রমাণ হল।অরন্য ধাক্কা দিয়ে বলল

-কি বিড়বিড় করা হচ্ছে হুম…

-নাহ কিছু না।

-একটু ঐদিকে ফির তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে।

-কি সারপ্রাইজ?

-ঐদিকে ফিরেই দেখ।

আমি ঐদিকে ফিরে দেখলাম আমার বাবা,মা, চাচা,চাচী সবাই এসেছে।আমি খুশিতে আত্নহারা হয়ে গেলাম।বিয়ের পর এসব ঝামেলায় আমার শ্বশুর বাড়িতে কেউ আসে নি।এভাবে যে সারপ্রাইজ পাব বুঝতে পারি নি।আমি তো খুশিতে স্থির হয়ে গিয়েছিলাম।কিছু বলতেও পারছিলাম না আবার নড়তেও পারছিলাম না।আমাকে অরন্য ধাক্কা দিয়ে বললেন

-এবার কেকটা কাট আর আপনি শব্দটার ইতি টান।

-আপনি শব্দটার ইতি টানব মানে?

-মানে আমাকে তুমি করে বলবে।

-আমার তো লজ্জা লাগবে।

-হয়েছে হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবে না।কেকটা কাট সবাই অপেক্ষা করছে।

কেকটা কাটার সাথে সাথে চারদিকে বাজি ফুটতে লাগল।কয়েকটা ফানুস আকাশে উড়তে লাগল।কি যে এক অণুভূতি বলে বুঝানো যাবে না।মনের ভিতরটা এমন লাগছে যেন ঝড় হওয়ার পর শীতল বাতাস বইছে।সত্যিই বুঝতে পারি নি আমার ভূতমশাই আমায় এত ভালোবাসে।

হঠাৎ বিয়ে

কেকটা কাটলাম।ভূতমশাই আমাকে হাতে রিং টা পড়িয়ে দিল।আমি লজ্জায় দৌঁড়ে রুমে চলে আসলাম।অরন্য আমার পিছন পিছন আসল।অরন্যকে বললাম

-আপনার তো

অরন্য আমার মুখটা আটকে দিয়ে বলল

-আপনি না তুমি বল।

আমি লজ্জা মাখা মুখে উত্তর দিলাম

-তোমার তো আমাকে ভালো লাগে না।অর্পা আপুকে তো প্রথম দেখায় ভালো লেগেছিল।হুট করে আমাকে ভালো লাগল কিভাবে?

-কারন “প্রথম দেখায় ভালো লাগার চেয়ে দেখতে দেখতে ভালো লাগা অনেক শ্রয়।”

-আমার কথাটায় আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে?

-সত্যি কথা বললে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না বরং সত্যতার প্রমাণ হয়।

সেদিনের পর থেকে অরন্য আর আমার জীবনটা পুরোপুরি পাল্টে গেল।দেখতে দেখতে ৩ টা বছর কেটে গেল।এর মধ্যে আমি একটা পুত্র সন্তানের মা হলাম।একদিন পাশের বাসার পরিচিত এক ভাবী আমার ছেলেকে দেখতে এসে আমাকে বললেন

-অনন্যা ভাবী আপনাদের বিয়েটা যেন কিভাবে হয়েছে?

উত্তরে আমি বললাম

-আমাদের হঠাৎ বিয়ে হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights