স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প
স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প ঘরের লোকজন চটুল হাসি হাসতে হাসতে আমাকে যখন এক ঠেলা দিয়ে ফুলশয্যার ঘরে ঢুকিয়ে দিল, খেয়াল করলাম মেয়েটা আড়ষ্ট।

যেদিন প্রথম কথা বলেছি ওইদিন ও এরকম ছিল, আংটি পড়ানোর দিন ও এরকম। মেয়েটা বোধহয় লাজুক, কেটে যাবে, ভাবলাম।

রুমে দরজা দিয়ে হাসি হাসি মুখ করে বললাম, ‘ভয় লাগছে’?

মেয়েটা চুপ করে মাথা নিচু করে আছে।

আরেকটু সামনে গিয়ে দেখলাম , চোখমুখ কান্নার পানিতে একাকার। মেকাপের দফারফা অবস্হা। ছোটখাট ব্যাপার না, এটুক বুঝতে পারলাম।

প্রায় আধাঘন্টা চেষ্টার পর জানলাম, নীরা অন্তঃস্বত্তা।

তার একজনের সাথে সম্পর্ক ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তাদের ঘনিষ্ঠ মেলামেশা হয়, মেয়েটা টের পেলে ছেলেটাকে বলে।

এবং যথারীতি বীরপুঙ্গব অস্বীকার করে পালিয়ে গেছে।

তার বাসায় বলার একদম সাহস ছিল না, কি মুখে বলবে! আগে থেকেই বিয়ের প্রস্তাব আসছিলো, রাজি হয়ে যায় এরপর। কিভাবে বলবে সেটা ভেবেই ভয়ে আধামরা হয়ে ছিল।

আমি বেশ কিছুক্ষন গম্ভীর হয়ে বসে থাকলাম, তারপর জিজ্ঞেস করলাম, ‘কয় মাস’?

মৃদু কন্ঠে বললো, ‘দুমাস’

আমি দু দিন পরেই নীরাকে এক গাইনীর ডাক্তারকে দেখালাম। টেস্ট করালেন, আলট্রাসনোগ্রামে রেজাল্ট আসলো পজিটিভ। স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

নীরার হাতের মেহেদীর দিকে তাকিয়ে ডাক্তার জিজ্ঞেস করলো, ‘বিয়ে কয়মাস?’

আমি জবাব দিলাম, ‘দু মাস’

ডাক্তার চোখ মটকে হাসলেন, নীরার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনার হাতের মেহেদীর ডিজাইনটা অনেক সুন্দর’।

নীরা আমি দুজনেই অপ্রস্তুত হলাম। পরবর্তীতে এ ডাক্তারকে আর দেখাবো না ঠিক করলাম মনে মনে।

নীরাকে আমি একটা বকাও দেইনি ওই রাতের পর, চুপ চাপ সামাজিক দায়িত্ব পালন করে গেছি। সবার বাসায় নিয়ে যাই, নিয়ম করে ডাক্তার দেখাই।

প্রকৃতির নিয়মে একদিন বাইরে থেকেই বোঝা গেল ও মা হবে। সবাই টিকাটিপ্পনি কাটে, ‘কি ভাই এতো তাড়াহুড়া!’ আমি বোকার হাসি দেই। বাসার সবাই খুশি।

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

নীরা আমাকে প্রচন্ড ভয় পায়, ওর ধারনা আমি ওকে করুনা করেছি।

অথচ ও জানে না, ও যখন বাম কাত হয়ে ঘুমায়, আমি আস্তে ফিসফিস করে বাচ্চাটার কাছে গিয়ে বই পড়ে শোনাই।

ঘরে হালকা রবীন্দ্র সংগীত বাজে ঘুমানোর আগে, আমার পছন্দ। মেয়েটা একা একা কোথাও যেতে পারে না, আমি ধরে ধরে দিয়ে আসি।

এভাবেই একদিন প্রসব বেদনা ওঠে ওর, হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। ফুটফুটে একটা মেয়ে হল সিজার করে। ওটিতেই কোলে নিলাম, জীবন্ত পুতুল একটা।

মা মেয়েকে কেবিনে দেওয়া হল। জ্ঞান ফিরতেই ভেতরে গেলাম।

প্রথম দিনের আড়ষ্ট ভাবটা আবার ফিরে এসেছে নীরার মাঝে। আমি ওর পাশে বসলাম না, পাশ থেকে বাচ্চাকে কোলে নিলাম, তারপর ওর মাথার কাছে বসলাম, বললাম, ‘আমার মেয়েটা তোমার মতোই সুন্দরী হবে’

নার্স পর্দা ফাঁক করে ভেতরের দৃশ্য দেখে অবাক। বাচ্চা কোলে নিয়ে বাচ্চার মা আর বাবা একে অপরকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদছে। সবাই এদিনে হাসে, এরা কাঁদছে।

নার্স পর্দা ছেড়ে চলে আসলো দূরে, তার চোখেও পানি

হাসির ভালোবাসা থেকে কান্নার ভালোবাসা বড়, সেই ভালোবাসায় বাঁধ সধতে হয়। স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প ।

2 thoughts on “স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প”

Leave a Comment

Verified by MonsterInsights